• ঢাকা
  • সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , সকাল ০৮:০৪
ব্রেকিং নিউজ
হোম / বাণিজ্য
রিপোর্টার : বিশেষ প্রতিনিধি:
কপার স্ক্রাপ মার্কেটে শতশত কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

কপার স্ক্রাপ মার্কেটে শতশত কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

প্রিন্ট ভিউ

          বছরে বিক্রি প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার কাঁচামাল,
          ৮০% কাঁচামাল ক্রয় করে প্রায় ছয়/সাত কর্পোরেট কোম্পানি,
          ৯০% কপার স্ক্রাপ দেয় সাত/আট প্রতিষ্ঠান, 
          ৩০০০ বেশি দোকান, নেই ভ্যাট চালানের ব্যবহার

          ঢাকার মিডফোর্ড এলাকার বেচারাম দেউরির কপার স্ক্রাপ মার্কেট থেকে বছরে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার কাঁচামাল বিক্রয় থেকে সরকারের শতশত কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এই মার্কেটে তিন হাজারের বেশি কপার ও এলুমনিয়াম স্ক্রাপ বিক্রয়ের দোকান রয়েছে। এখান থেকে ছয়টিরও বেশি কর্পোরেট গ্রুপ বৈদ্যুতিক ক্যাবলস বানানোর জন্য বছরে হাজার হাজার টন কপার স্ক্রাপ কিনছে। সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, এখানের সাত/আটটি বড় দোকান এই কাঁচামাল ৮০% সরবরাহ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে মেসার্স রহিম মেটাল, বাধন মেটাল স্টোর, মেসার্স ইসরাট মেটাল স্টোর, প্যাসেফিক মেটাল, সাদিয়া মেটাল, জাহাঙ্গীর এন্ড ব্রাদার্স, মৌসুমী/নিউ মৌসুমী এন্টারপ্রাইজ, আল কদর, এসএস এন্টারপ্রাইাজ প্রভৃতি। ভ্যাট ফাঁকি দিতে একএক দোকানদার কয়েক নামের দোকান ব্যবহার করে। রাজস্ব বিভাগ উদাসীনতা কাটিয়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এই ফাঁকির পরিমাণ ক্রমে বাড়তেই থাকবে।

          মিডফোর্ডের রজনী বোস লেন, বেচারাম দেউরির কপার স্ক্রাপ মার্কেটের বড় সরবরাহকারীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এখান থেকে সবচেয়ে বেশি কপার স্ক্রাপ কিনছে প্রাণআরএফএল গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান- রংপুর মেটাল ইন্ডাষ্ট্রিজ। এরপরের অবস্থান যথাক্রমে এসকিউ ওয়্যার এন্ড ক্যাবলস কোম্পানি, মোহাম্মাদী ইলেকট্রিক ওয়্যারস এন্ড মাল্টি প্রডাক্টস (এমইপি ক্যাবলস), কপার টেক ইন্ডাষ্ট্রিজ, পলি ক্যাবল ইন্ডাষ্ট্রিজ, মেঘনা স্টার ক্যাবলস, ফারহানা মেটাল ওয়ার্কস। পাশাপাশি অন্যান্য কয়েকটি ক্যাবলস কোম্পানিও স্ক্রাপ কিনছে। 

          জানাগেছে, এদের মধ্যে কপার স্ক্রাপ গলানো চুল্লি বা মেশিন রয়েছে -রংপুর মেটাল, এসকিউ, কপার টেক, মেঘনা স্টার, ফারহানা মেটাল প্রভৃতি কোম্পানির। খরচ কমাতে যাদের চুল্লি নেই তাদের কেউকেউ সরাসরি স্ক্রাপ কিনে এসব কোম্পানির চুল্লি থেকে মাপ মত কপারের তার বানিয়ে নেয়। প্রতি কেজি স্ক্রাপ গলিয়ে ওয়্যার বানাতে কম খরচ এসকিউ’র চুল্লি থেকে ১১৫ টাকা, এবং ফারহানা মেটাল ওয়ার্কস থেকে লাগে ১৩০ টাকা। অন্যদিকে ভ্যাট না দেওয়া এই স্ক্রাপ থেকে বানানো কপার ওয়্যার, সুপার এনামেল ওয়্যার মার্কেটে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ফারহানা মেটাল ও কপার টেক বাদে অন্যান্য কোম্পানি বিভিন্ন সাইজের বৈদ্যুতিক ক্যাবলস উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। 

          একটা সূত্র থেকে জানাগেছে, জানুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কপার ক্যাথড আমদানী হয়েছে ১৪২৮৮ টন। এর মধ্যে বিআরবি ক্যাবল আমদানী করেছে ১০৫৭৮ টন, রংপুর মেটাল ৪০২ টন, ওয়ালটন ক্যাবলস ৬০২ টন,  আরআর ক্যাবলস ৮৯২ টন, পলি ক্যাবল ৫০ টন, খুলনা ক্যাবলস শিল্প ২১০ টন, মোহাম্মাদী ইলেকট্রিক এন্ড মাল্টিওয়্যার ২০১ টন, কপারটেক ২৫০ টন, বিবিএস ক্যাবলস ১৫০ টন, এলকো ক্যাবল ৮০ টন, পার্টেক্স ক্যাবলস ৭৭৭ টন, গাজী ওয়্যার্স ৫০ টন, রুরাল পাওয়ার কোম্পানি ২১ টন, বাংলাদেশ চায়না রিনেয়বল এনার্জী কোম্পানি ১৮ টন। 

          ক্যাবলস মার্কেট, প্রত্যেক অলিগলি এবং নিজস্ব শোরুম সংখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা যায় বিআরবি ক্যাবলস এর চেয়ে কিছু ক্ষেত্রে রংপুর মেটালের (বিজলী ক্যাবলস) বিপণন কেন্দ্র বেশি। বিআরবি যে পরিমাণ কাঁচামাল আমদানী করেছে এতবড় মার্কেট এদের আছে কিনা সন্দেহ। কিন্তু রংপুর মেটালের মার্কেট ও কাঁচামাল আমদানী পর্যবেক্ষণ করলে বুঝা যাবে কি পরিমাণ স্ক্রাপ মার্কেট থেকে ভ্যাট না দিয়ে কিনছে। অন্যদিকে বৈদ্যুতিক পণ্য সামগ্রী প্রায় সমপর্যায়ের উৎপাদন, দোকানপাটে মালামাল বিক্রির ধরনে প্রথম সারি বা এর কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে এসকিউ, পার্টেক্স, এমইপি, পলি, বিবিএস, আরআর। 

          দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, প্রতি মাসে এই মার্কেট থেকে প্রায় ১৬০০ টন কপার স্ক্রাপ বিক্রি হয়। এই কাঁচামালের সিংহভাগ যায় সুপার এনামেল ওয়্যার ও ইলেকট্রিক ক্যাবলস বানানোর মেশিন বা চুল্লিতে। প্রতি কেজি কপারের বিক্রয় মূল্য গড়ে ১২০০ টাকা হলে প্রতি মাসে কি পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি পড়ছে তা সহজেই অনুমেয়। ৩০০০ বেশি দোকান থেকে এই পরিমাণ কাঁচামাল বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কেজি প্রতি ৬০ টাকা মজুরী ধরা হয় বলে জানাগেছে। 

          ডলার ও স্বর্নের মতই এই মালের ক্রয় বিক্রয়ের দাম ওঠানামা করে। দাম বেশি, লাভ বেশি হওয়ায় কপারের ক্রয়-বিক্রয়, দোকানসংখ্যা বেশি এবং বিরাট এরিয়া জুড়ে গোডাউন, দোকান ভর্তি খোলা স্ক্রাপ হাজার হাজার বস্তা ভর্তি স্ক্রাপের কাঁচামাল। শতশত টন কপার স্ক্রাপ সরবরাহকারীদের বেশির ভাগই রয়েছে এসি করা আলাদা অফিস। 

          বিষয়টি নিয়ে জানতে এমইপি গ্রপের পরিচালক জনাব ফাহিমের সাথে তার মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি  অফিসে যেতে বলেন এবং ফ্যাক্টরিতে কাঁচামাল রয়েছে তা ভিজিট করে দেখে যেতে বলেন। ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পরিচালক জানান, আমি নতুন এই বিভাগে এসেছি। আমার বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি ধারনা নেই। অন্যদিকে প্রাণআরএফএল গ্রপের সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের দায়িত্বরত তৌহিদুজ্জামানের সাথে এবিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি। 

          বাণিজ্য

          আরও পড়ুন