• ঢাকা
  • বুধবার , ২৯ জুলাই ২০২৬ , রাত ০১:৪২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / ক্রাইম
রিপোর্টার : নিজস্ব প্রতিনিধি
- অসহায়ত্বের জিম্মিত্বে শতাধিক মানুষ জীবন ঝুুঁকিতে

- অসহায়ত্বের জিম্মিত্বে শতাধিক মানুষ জীবন ঝুুঁকিতে

প্রিন্ট ভিউ

- পিলারবিহীন ৭০ বছরের পুরনো পাঁচতলা

- আবার নিচ তলায় এ্যাম্ব্রোডায়ারি কারখানা

পিলার ছাড়াই নির্মিত প্রায় ৭০ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ পাঁচতলা বাড়ির উপর আবার একতলা। এরপর আবার নিচ তলায় উচ্চ শব্দ সম্পন্ন ও হাই ভোল্টেজের মেশিনের এ্যাম্ব্রোডায়ারি কারখানা। যে কোন সময়ে ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কার থোড়াইকেয়ার। শুধুই এটা যেন একটা টাকা কামানোর ফাঁদ। আর অসহায়ত্বের জিম্মিত্বের এ ফাঁদে আটকে প্রায় শতাধিক হতদরিদ্র মানুষ (ভাড়াটিয়া) চরম ঝুকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে একাধিক ভুক্তভোগী সুত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি আরো জানায়, দিন মজুর শ্রেণীর ওই হতদরিদ্র লোকগুলোর অসহয়াত্বের সুযোগে লোভী ও পিশাচ শ্রেণীর ওই ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী বাড়িওয়ালা ওই বিপুল সংখ্যক লোককে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে রেখেছে। আশ-পাশের অসংখ্য লোক এর বিরোধী করলেও দাপটি বাড়িওয়ালার সামনে টিকতে না পারেনি। আর এতে তা যেন নির্বিঘ্ন স্থায়ীত্বে রুপ নিয়েছে। ওই চরম ঝুকিপূর্ণতার কবলে পড়া মানুষগুলো হচ্ছে-খিলগাঁয়ের সিপাহীবাগের মন্টু গলিস্থ (চারতলা গলি সংলগ্ন) ২৪২ নস্বর বাড়িটির ভাড়াটিয়া। কথিত আছে-ওই বাড়িটি ১৯৭০-৭১ সালের দিকে প্ল্যান ছাড়া তো বটেই, পিলার ছাড়াই চারতলা বাড়িটি নির্মান করেন,বাড়ির সাবেক মালিক। এপর ২০২০- ২১ সালে ওই বাড়িটি জরাজীর্ণ ও এক ধরনের পরিত্যক্ত অবস্থায় ক্রয় করেন নোয়াখালিস্থ কাতারের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী শাহিনুর বেগম নামের ওই নারী। এরপর ওই দক্ষ ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী ও পুরাতন বাড়ি ক্রেতা খ্যাত শাহিনুর বেগম ওই চারতলার উপরে উপরে আরো একতলা করে ভাড়ার ব্যবসা শুরু করেছেন। তিন ইউনিটের এ জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত দৃশ্যমান বাড়িটির পাঁচটি তলার ছোট ফ্ল্যাটে ১৫-২০টি পরিবারের শতাধিক অসহয় শ্রেণীর লোক নানা কারণে বাধ্য হয়ে বসবাস করছে। সেটা আসল ব্যাপার নয়, মূল ব্যাপারটি হলো-ওই বাড়ির নিচ তলায় রয়েছে-উচ্চ শব্দ সম্পন্ন ও হাই ভোল্টেজের মেশিনের এ্যাম্ব্রোডায়ারি কারখানা। সকাল আটটা থেকে নিয়মিত গভীর রাত অবধি আবার কখনো ২৪ ঘন্টা চলে এ এ্যাম্ব্রোডায়ারি কারখানা। কারখানা চলাবস্থায় পুরো বাড়িটি কম্পনে মনে হয়-এই বুঝি বাড়িটি ভেঙ্গে পড়লো। সেই সাথে বিকট শব্দ আশ-পাশের বাসাবাড়িতে ছড়ায় অস্বস্তি। বছর তিন-চারেক আগে অবৈধ এ কারখানা স্থাপনে আশ-পাশের লোকজন বাধা দিলেও উৎরে উঠতে পারেনি। কারণ- ক্ষমতাধর, বাড়িওয়ালা শাহিনুর বেগম তার একান্ত দুই সহযোগী আলম (এ্যাম্ব্রোডায়ারির মালিক) ও তমিজ উদ্দিনের দ্বারা (ডিবি হারুনের আত্মীয় পরিচয়দানকারী ভাঙ্গাড়ি ওয়ালা) ওই সময় থানা পুলিশের সাথে আতাত করে ওই কারখানা বসায়। এরপর থানা পুলিশকে নিয়মিত মাসহারা দিয়ে তা সচলও রেখেছে। 

নাম না প্রকাশ করার শর্তে আশ-পাশের একাধিক বাড়িওালা জানান,বাড়িটির ভাড়াটিয়ারা এ্যাম্ব্রোডায়ারি মেশিনের শব্দ ও বিকট কম্পন সইতে নানা সমস্যার কারনে বাধ্য। কিন্তু আশ-পাশের লোকজন এ যাবৎ একাধিকবার এ এ্যাম্ব্রোডায়ারি মেশিনের শব্দ ও বিকট কম্পন বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিস্ট বিভিন্ন মহলে জানিয়ে ফায়দা হয়নি। উল্টো তাদের পড়তে হয়েছে- ওই দাপটি চক্রটির তোপের মুখে। প্ল্যান তো নাইই, পিলার ছাড়া পুরনো জোড়াতালির বাড়িটির নিচ তলায় আবার এ্যাম্ব্রোডায়ারি কারখানা। কারখানা চলাবস্থায় কম্পনে বাড়িটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা ওই বাড়িওয়ালা পাত্তাই দেন না। ফলে বিষয়টি এতগুলো ভাড়াটিয়ার জন্য মারাত্মক ঝুকি হয়ে দাড়িয়েছে। 

সরেজমিনে জানা যায়,বাড়ি মালিক শাহিনুর বেগম মূলত কাতারে এই বাড়ির ভাড়ার ব্যবসাই করেন। একই ভাবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পুরনো ও পরিত্যক্ত বাড়ি ক্রয় করে তিনি ওই ব্যবসাটা শুরু করেন। তবে তার এ বাড়িতে সাধারনত অসহয় ও মাদকের কারবারি শ্রেণীর ভাড়াটিয়ার জায়গা পান। কারণ-চান শুধু টাকা, অন্য কিছু তার দেখার বিষয় নয়। বিশেষ করে উল্লেখিত এ বাড়িটিতেই এ ধরনের অভিযোগ বেশ পুরনো। তবে তার কৌশলে আর দাপটের সামনে কেউ টিকতে পাওে না। আর তাতে বিষয়টি গতানুগতিক হয়ে দাড়িয়েছে। তবে সদ্য এ জরাজীর্ণ বিপুল সংখ্যক ভাড়াটিয়ার বসবাসরত বাড়িটির নিচ তলায় এ্যাম্ব্রোডায়ারি কারখানা রীতিমত আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। 

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বাড়িওয়ালা শাহিনুর বেগমের যোগাযোগের চেস্টা করেও সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে রাজউক এর একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তিনি বলেন, শুধু এ বিষয়ে দায়িত্ব একা রাজউক এর নয়, সিটি কর্পোরেশরেও রয়েছে।  তবে এধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  


ক্রাইম

আরও পড়ুন